দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মৌখিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ডাকবাংলোয় ডেকে পরীক্ষার্থীদের নম্বর পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা নিষিদ্ধ থাকলেও নিয়োগ কমিটিতে দুইজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সদস্য করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারীর ১৭৭টি পদের বিপরীতে এক হাজার ২৯৯টি এবং ১৮টি সুপারভাইজার পদের বিপরীতে ১৬৭টি আবেদন জমা পড়ে। গত ২৯ জুলাই উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে দিনব্যাপী প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির নিয়োগসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজনৈতিক সুপারিশ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য সচিবকে ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান পাপিয়া এবং এক বিএনপি নেতা পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর পরিবর্তন করে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার দুপুরে ইউএনওর ডাকবাংলোয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে নেওয়া হয় বলেও তাদের দাবি। অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এমন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও করেন তারা।
তবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউএনওর নির্দেশনায় ডাকবাংলোয় বসে পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ক্রমবিন্যাস করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কাউকে কোনো চাপ দেওয়া হচ্ছে না। ইউএনও কার্যালয়ে লোকজনের উপস্থিতি বেশি থাকায় গোপনীয়তার স্বার্থে ডাকবাংলোয় বসে কাজ করা হচ্ছে।”
এদিকে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিয়োগ কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদস্য সচিব হিসেবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পাপিয়া ও বর্তমান বিআরডিপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ।
নিয়োগ কমিটির সদস্য পাপিয়া বলেন, “ইউএনও আমাকে নিয়োগ কমিটিতে রেখেছেন যাতে কোনো অভিযোগ না ওঠে। সময়ের স্বল্পতার কারণে ডাকবাংলোয় বসে সবাই মিলে কাজ করেছি। স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে।”
অপর সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, “কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কাউকে চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। এমন অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে নাম-ঠিকানাসহ দিতে হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ ও জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জে আই